হাওজা নিউজ এজেন্সি: বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে লেবাননের টেলিভিশন চ্যানেল আল-মানারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন রেজায়ী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থাগুলোও তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করেছে।
রেজায়ী বলেন, ইরান প্রমাণ করবে যে নেতানিয়াহুর ‘বড় বড় ভুল’ ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের অবসানকে আরও কাছে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈরুত ও এর দক্ষিণ উপকণ্ঠ দাহিয়েহ ইরানের জন্য ‘রেড লাইন’। তাই এসব এলাকায় অগ্রসর হওয়ার অধিকার কারও নেই।
নেতানিয়াহুকে সরাসরি হুমকি
মেজর জেনারেল রেজায়ীর বক্তব্যে নেতানিয়াহুকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে কঠোর হুমকির পাশাপাশি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানেরও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ ইসরায়েলকে এমন এক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে দেশটির অস্তিত্বের অবসান আরও কাছে চলে এসেছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা তাকে নরকে পাঠাব এবং প্রমাণ করব যে নেতানিয়াহুর বড় ভুলগুলো ইসরায়েল রাষ্ট্রের সমাপ্তিকে আরও কাছে নিয়ে এসেছে।’
এর আগে জুন মাসেও লেবাননের দাহিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী অগ্রসর হলে রেজায়ী উত্তর ইসরায়েলকে ‘নরকে পরিণত করার’ হুমকি দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে।
ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নাকচ
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরানের কোনো ষড়যন্ত্রের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন রেজায়ী।
তিনি দাবি করেন, এ ধরনের খবর নেতানিয়াহুর তৈরি ‘মিথ্যা প্রচারণা’। তাঁর অভিযোগ, এ খবর ছড়িয়ে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ভয় দেখিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
জেনারেল রেজায়ী বলেন, ইরান যদি সত্যিই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তা বাস্তবায়নে কোনো কিছুই তাদের বাধা দিতে পারবে না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও কঠোর সতর্কবার্তা
একই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অবরোধ অব্যাহত রাখলে তেহরান মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থকে ‘শতভাগ শক্তি ও তীব্রতার সঙ্গে’ লক্ষ্যবস্তু করবে।
ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সময়ে তারা সমুদ্র অবরোধ মোকাবিলা করে বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে এবং তেল বিক্রির পরিমাণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগের পর্যায়ে ফিরে গেছে।
জেনারেল রেজায়ীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভাসমান মজুতের তেল খালাসের পাশাপাশি তেহরান নতুন রপ্তানি পথও তৈরি করেছে।
রেজায়ীর সর্বশেষ বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও বৈরুতকে ঘিরে ইসরায়েলি তৎপরতার বিষয়ে তেহরানের সতর্ক অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
আপনার কমেন্ট